৬ ঘণ্টার মধ্যে রিয়াজের শ্বশুরের আত্মহত্যার ভিডিও সরানোর নির্দেশ


tushar প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২২, ১:২৮ PM /
৬ ঘণ্টার মধ্যে রিয়াজের শ্বশুরের আত্মহত্যার ভিডিও সরানোর নির্দেশ

ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করা চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর আবু মহসিন খানের (৫৮) ভিডিওটি ৬ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এস মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

এর আগে গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করেন মহসিন খান। মৃত্যুর আগে তিনি তার জীবনের নানা হতাশার কথা তুলে ধরেছেন। আত্মহত্যার ঘটনার ভিডিও দ্রুত ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

মৃত্যুর আগে আবু মহসিন খানের বলা কথাগুলো দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

‘আমি মহসিন। ঢাকায় থাকি। আমার বয়স ৫৮ বছর। কোনো একসময়ে আমি ভালো ব্যবসায়ী ছিলাম। বর্তমানে আমি ক্যানসারে আক্রান্ত। তাই আমার ব্যবসা কিংবা কোনো কিছুই নেই। ভিডিও লাইভে আসার উদ্দেশ্য হলো, মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আমার যে এক্সপেরিয়েন্স, সেটা শেয়ার করলে হয়তো সবাই জানতে পারবে, সবাই সাবধানতা অবলম্বন করবে।

‘গত ৩০ তারিখ আমার খালা মারা যান। তাঁর একটি ছেলে আমেরিকায় থাকে, মা মারা গেল অথচ ছেলেটি আসল না। এটা আমাকে অনেক দুঃখ দিয়েছে। কষ্ট লেগেছে।

‘আজকে আমার আরেকজন খালা মারা গিয়েছেন। তাঁরও একটি ছেলে আমেরিকায় ছিল। অবশ্য তাঁর তিনটা ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। তিনজনই বর্তমানে বাংলাদেশে আছেন। তারা হয়তো দাফন–কাফনের কাজ সম্পন্ন করছে। সেদিক দিয়ে বলব, এই খালা অনেকটা লাকি।

‘আমার একটামাত্র ছেলে। সে অস্ট্রেলিয়াতে থাকে। আমার বাসায় আমি সম্পূর্ণ একা থাকি। আমার খালা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার ভেতরে খুব ভয় করছে। আমি যদি আমার বাসায় মরে পড়েও থাকি, আমার মনে হয় না যে এক সপ্তাহ কেউ জানতে পারবে, আমি মারা গেছি।

‘ছেলে–মেয়ে, স্ত্রী—যাদের জন্য যা–ই কিছু আমরা করি। আমরা সব কিছু করি সন্তান এবং ফ্যামিলির জন্য। আপনি যদি এক শ টাকা ইনকাম করেন, আয় করেন; তার টোয়েন্টি পারসেন্ট টাকাও আপনি নিজের জন্য ব্যয় করেন না। যদি টোয়েন্টি পারসেন্ট টাকা আপনি নিজের জন্য ব্যয় করেন, তাহলে ৮০ পারসেন্ট টাকা আপনার ফ্যামিলির জন্য ব্যয় হয়।

‘গত করোনা শুরুর আগে থেকে আমি বাংলাদেশে আছি। একা থাকা যে কী কষ্ট—যাঁরা একা থাকেন, তাঁরাই একমাত্র বলতে পারেন বা বোঝেন।

‘যাদের জন্য আমি বেশি করছি, প্রত্যেকটা লোকের কাছে আমি প্রতারিত হয়েছি। আমার এক বন্ধু ছিল, নাম কামরুজ্জামান বাবলু। যাকে আমি না খেয়ে তাকে খাইয়েছি। সে আমার ২৩ থেকে ২৫ লাখ টাকা মেরে দিয়েছে।’